তুমি পারবে, তোমাকে পারতেই হবে, তুমি যদি আত্মবিশ্বাসী এবং অধ্যবসায়ী হও ভালো রেজাল্ট তুমি করবেই। এভাবেই তো একটি শিশুকে পড়ালেখায় মনোযোগী করা যায়। এখনকার বাবা মারা অনেক সচেতন, তারা জানেন কিভাবে বিজ্ঞান সম্মত উপায়ে বাচ্চার মেধার বিকাশ ঘটাতে হয়। কিন্তু তবু কেন বাচ্চার মেধার বিকাশ ঘটছেনা? কেন সে অংকে অমনোযোগী? বাবা মার চোখে ঘুম নেই সন্তানের চিন্তায়। আমরাতো বলেছি সে বড় হয়ে যা হতে চায় তাই হবে। আমরাতো তাকে কোনো প্রেশার দেইনা। বিজ্ঞান সম্মত উপায়ে তাকে সুশিক্ষিত করতে চাই। তবে কেন সে মনোযোগী হচ্ছেনা? আরেকটু মন দিয়ে অংক করলে ১০০ না পাক ৯০ সে পেতোই।
একবার ভেবে দেখুন এ বাচ্চাটি হয়তো অন্য কোন সাবজেক্টে 90 / 100 পায়। হতে পারে সেটা বাংলা, ইংরেজি, ড্রইং কিংবা পিটি তে। আমরা বাবা মারা সাধারণত যে ভুল টি করে থাকি তা হলো বাচ্চাটি যে বিষয়ে ভালো করছে সে দিকে খেয়াল না করে সে কোন বিষয়ে খারাপ করছে সে দিকে এক্সট্রা খেয়াল দিতে থাকি তাকে মোটিভেট করতে থাকি, অনেক অনেক কোচিং কিংবা টিচারের আশ্রয় নিয়ে থাকি। এতো কিছু করার পর বাচ্চাটি ইম্প্রুভ করবেনা তা নয়। সে অবশ্যই ইম্প্রুভ করবে। কিন্তু কতটুকু? আগে ৩০ পেলে এখন পাবে পঞ্চাশ বা ষাট। যে লাউ সেইতো কদু। বাবা মা আবারও হতাশ। আমার বাচ্চাটা অংকে ভালোনা। ধরেই নেয়া হলো তার ব্রেইন ভালোনা। এ সমাজে সাধারণত বিজ্ঞানের ছাত্র ছাত্রীদের কেই মেধাবী হিসেবে গন্য করা হয়ে থাকে, এটি বাস্তব সত্য।
বাবা মা হিসেবে আমাদের যেটা করনীয় সেটা হলো, খেয়াল রাখতে হবে শিশু টি কোন বিষয়ে সবচেয়ে বেশি আনন্দ পায় কোন বিষয়ে খেয়াল না দিলেও সেই বিষয়েই সে সর্বচ্চো নাম্বার নিয়ে আসে? আমরা যদি শিশুটিকে তার পছন্দের বিষয় টি শেখার জন্য তাকে আরো অনেক বেশী সুযোগ করে দেই তবে তার সফলতা কেউ আটকে রাখতে পারবেনা।।ছোট বেলা থেকেই সে বড় হবে সফলতার মালা গলায় জড়িয়ে। আর এই ছোট ছোট সফলতা গুলোই ধীরে ধীরে বাড়িয়ে তুলবে তার আত্মবিশ্বাস। তাই শিশুকে আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তুলতে হলে আগে খুজে বের করতে হবে তার কোন বিষয়ে মনযোগ বেশি। প্রত্যেক টি শিশুকেই সৃষ্টিকর্তা একটি বিশেষ গুন দিয়েই এই পৃথিবীতে পাঠান।একটি অটিস্টিক শিশু ও জন্ম নেয় কোনো একটি বিশেষ গুন নিয়ে। হয়তো এটাই সৃষ্টির নিয়ম। তাই হতাশ না হয়ে শিশুটিকে যদি আমরা একটু সাহায্য করি তার প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে তাহলে প্রতিটি ঘরে শিশুর পড়ালেখা নিয়ে হতাশা থাকার কোনো কারনই থাকবেনা।
সৃষ্টি কর্তা যদি সবাইকে একটি মাত্র জ্ঞান দিয়ে পৃথিবীতে পাঠাতো তাহলে কি পৃথবীটা ব্যালেন্স হতো? এই পৃথিবীর সব মানুষ শুধু অংক পারে আর কিছু নয় ব্যাপার টা এমন হলে পৃথিবীটা নিশ্চিত দোযখ হয়ে যেতো।
ছোট ছোট সফলতা থেকে জন্ম নেয় আত্মবিশ্বাসের।
তাই হতাশ না হয়ে আপনার শিশুটিকে সৃষ্টিকর্তা যে বিশেষ জ্ঞান দিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন তাকে সাদরে গ্রহন করুন। নিশ্চয় সৃষ্টিকর্তা তাঁর সৃষ্টির সেরা উপহারটিই আমাদের দান করেছেন।

Comments
Post a Comment